
বাংলাদেশের নদীভিত্তিক ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো। “ঐতিহাসিক পদ্মা ১০০ কিলোমিটার আল্ট্রা ম্যারাথন সাঁতার ২০২৫” সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন একক সাঁতারু মনিরুল ইসলাম। এই সাঁতারটি বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ায় পদ্মা নদীতে প্রথম ও দীর্ঘতম একক ১০০ কিলোমিটার সাঁতার হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
গত ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ শুক্রবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে মানিকগঞ্জ জেলার পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাট থেকে সাঁতার শুরু হয়। দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট টানা সাঁতার কেটে পরদিন ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ শনিবার বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে চাঁদপুর মোহনায় সাঁতার শেষ করেন তিনি।
এই ঐতিহাসিক অভিযানে একমাত্র অংশগ্রহণকারী ছিলেন মনিরুল ইসলাম নিজেই। পদ্মার প্রবল স্রোত, রাতের অন্ধকার ও দীর্ঘ সময়ের শারীরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও তিনি দৃঢ় মনোবল ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সাফল্যের সঙ্গে এই দূরপাল্লার সাঁতার সম্পন্ন করেন।
এই সাঁতারের মূল উদ্দেশ্য ছিল নদী রক্ষা, জনসচেতনতা সৃষ্টি, ইতিহাস গড়া এবং দেশের আনাচে-কানাচে সাঁতার খেলাকে আরও বিস্তৃত ও জনপ্রিয় করা। আয়োজকদের মতে, এই আয়োজন দেশের ক্রীড়া ও নদীকেন্দ্রিক সচেতনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাঁতার চলাকালীন ও সমাপনী পর্যায়ে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং বিআইডব্লিউটিএর প্রতিনিধি। এছাড়া সহযোগী সংগঠন হিসেবে যুক্ত ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এক্স-স্টুডেন্ট ক্লাব ঢাকা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এবং অ্যাডভেঞ্চার সুইমিং বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এক্স-স্টুডেন্ট ক্লাব ঢাকা। পুরো আয়োজন জুড়ে বিআইডব্লিউটিএর ১০ জন প্রফেশনাল কর্মী লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে সার্বক্ষণিক সহায়তা প্রদান করেন। আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে পিপলস ফিড অ্যান্ড হ্যাচারি পিএলসি।
সাঁতার শেষে মনিরুল ইসলাম বলেন,
“আমি চাই সাঁতার খেলাকে বাংলাদেশে একটি উচ্চতায় নিয়ে যেতে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সাঁতারে উৎসাহিত হয়। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে আরও বড় দূরপাল্লার সাঁতারে অংশ নিতে চাই এবং একদিন ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করার স্বপ্ন রয়েছে। এই অভিযানে যারা নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন, সবার প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”