
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী।
ফেনী একটি তুলনামূলক ছোট জেলা শহর। অথচ এই শহরেই বর্তমানে প্রায় অর্ধশতাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত একটি তালিকায় ৪৮টি প্রতিষ্ঠানের নাম দেখা যায়, যা শহরের স্বাস্থ্যখাতের দ্রুত বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের চিত্র তুলে ধরে। সরকারি নিবন্ধন তালিকাতেও ফেনীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নয়, বরং রোগী সংগ্রহ ও ব্যবসা বৃদ্ধি। কমিশনভিত্তিক রোগী রেফার, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অতিরিক্ত বিল এবং সেবার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা অবশ্যই প্রয়োজনীয়। তবে এর সঙ্গে কার্যকর তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ জনবল এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষ আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
স্বাস্থ্যসচেতন নাগরিকদের দাবি, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পরিদর্শন, লাইসেন্স যাচাই, পরীক্ষাগারের মান নিয়ন্ত্রণ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান সৎভাবে ও মানসম্পন্ন সেবা দিচ্ছে, তাদেরও যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই সেবা যেন ব্যবসার কাছে হার না মানে—এটাই এখন ফেনীবাসীর প্রত্যাশা।